27.10.2022

 কথা কটু হলেও সত্য

(দ্বিতীয় অংশ)


ড. বরসম্বোধি ভিক্ষু


নারীদের জাগরুকতা হওয়ার সবচেয়ে বড় লাভ ইহাই যে, তারাই জাগরুক প্রজন্মের জন্ম দিবে…। ধার্মিক অন্ধভক্ত নয়। 


ভারতবর্ষ হল আস্থার মহাসাগর। এখানকার লোক গাছ, পাথর এবং পশুতে অটুট আস্থা রাখে। কেবল মানুষকে মানুষ বলে বুঝে না। 


প্রথমে দুনিয়া বানিয়েছে, এরপর লোক বানিয়েছে, অতঃপর তাদের দ্বারা ভুল করিয়েছে, তারপর এর জন্য শাস্তিও নিজেই দিয়েছে…..তিনি কে যিনি নিজের বানানো প্রাণীদের দ্বারা ভুল করিয়ে থাকেন? 


এ ভারতবর্ষে দেবী-দেবতার কোন কমতি নাই। কিন্তু মানুষ খুঁজে বের করতেই কেবল মুস্কিল হয়। 


ছোট বাচ্চাদেরকে ধর্ম শিক্ষা হতে বাঁচানো প্রয়োজন। ধর্ম শিক্ষা গ্রহণকারী বাচ্চারাই বড় হয়ে দেশে ধর্মের জন্য অধিকতর লড়াই বা যুদ্ধ করবে এবং দেশকে টুকরা টুকরা করবে। 


ভাই, রাশিতে কি আছে? কন্যা রাশি সম্পন্ন যুবকও কন্যা ছাড়া থাকতে দেখা যায় এবং সিংহ রাশি সম্পন্নকেও কুকুর কর্তৃক দৌঁড়াতে থাকে। 


এখন মন্দিরে স্থাপিত ভগবানও বিজ্ঞানের ভরসায় থাকেন…। নাহলে মন্দিরে CCTV ক্যামরার প্রয়োজন কেন? যুক্তিবাদী হোন। অন্ধভক্ত নয়। 


শুনেছি কুম্ভতে সে লোকই স্নান করতে যান, যাঁরা পাপ করে থাকেন। তাহলে সাধু, সন্ত, বাবারাই সবচেয়ে বেশী পাপী মনে হয়। 


তারাও হিন্দু ধর্মের কট্টর সমর্থক হয়ে থাকে, যাদেরকে স্পর্শ না করে উপর হতে জল পান করা হয়। এ সকল গোলামদের ডুবে মরা উচিত। 


সাধারণ চোর আপনার ঘড়ি, বেগ এবং স্বর্ণের চেইনই চুরি করবে। কিন্তু রাজনৈতিক চোর আপনার ভবিষ্যত, শিক্ষা, স্বাস্হ্য এবং রোজগার সবই চুরি করবে। 


ভারত এরকম এক দেশ যেখানে ভগবানের ভয় দেখিয়ে দানবাক্স এবং পাকিস্তানের ভয় দেখিয়ে ভোটবাক্স ভর্তি করে থাকে। 


যখন শ্বাসও উপরওয়ালা গণনা করে প্রেরণ করে থাকেন, তাহলে উপরওয়ালা’র বিরুদ্ধে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে শ্বাস বাড়ানোর প্রয়াস কেন করা হয়? 


পুঁজিবাদ, মোল্লাবাদ এবং ব্রাহ্মণবাদ হল দেশের সবচেয়ে বড় শত্রু এবং এ সময় তিনটিরই ভয়ঙ্কর মেলবন্ধন  কায়েম রয়েছে। এ তিনটির সম্মিলনের স্থিরতাকে কায়েম রাখার জন্য মিডিয়া এবং ধর্ম হল শক্ত হাতিয়ার…। 


যদি তিনি সবকিছুতে সর্ব শক্তিমান হতেন তাহলে তোমাদের মত মুর্খ গাধাদেরকে তাঁর জন্য যুদ্ধ বিগ্রহ ও খুন-খারাবি করতে হতনা। ইহা বুঝতে চেষ্টা করো। 


যা কিছু মানুষের বুঝার অতীত হয় এবং যেখানে মানুষের মস্তিস্ক পৌঁছতে পারেনা, মানুষ তাকেই যাদু চমৎকার বা ভগবান মনে করে থাকে। 


বিজ্ঞান সেদিনই ধর্মকে কব্জা করে নিয়েছে, যেদিন প্রথমবার মন্দির-মসজিদের উঁচু চুড়া বা মিনারে বিজ্ঞান কর্তৃক নির্মিত লাউড স্পীকার লাগিয়েছিল। 


মৃত্যুর পর মনুষ্যের আত্মা ঘুরতে থাকে। তাহলে পশুদের আত্মা কেন ঘুরেনা। আমরা পশুদের ক্রিয়া-কর্ম ও মৃত্যুভোজ হতে তো দেখিনা। শিক্ষিত হোন, প্রতারণা ত্যাগ করুন। 


মন্দিরের দরজা ভক্তদের জন্য খোলা রয়েছে। কিন্তু কিছু ভক্ত সেখানে ঘন্টা বাজাতে পারবেনা, মুর্তি স্পর্শ করতে পারবেনা, প্রসাদ নিতে পারবেনা, কিন্তু দান দিতে পারবে। যতদিন পর্যন্ত এসকল মুর্খ লোক জীবিত থাকবে, চতুর এবং আলস্য পরায়ণ পুরোহিত ফলে-ফুলে ফুলতে থাকবে। 


জ্যোতিষ নামক প্রতারকগণ গ্রহের দিশা পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু বন্যা ও তুফানের দিশা পরিবর্তন করতে অপারগ। 


ভারতবর্ষে কিছু ভাইরাস রয়েছে। যেগুলির এখনও পর্যন্ত কোন সফল চিকিৎসা নাই…। সেগুলি হল কপটতা, অন্ধবিশ্বাস, ছুত-অচ্ছুত, জাতিবাদ এবং শোষণ। 


আমি হলাম জোর জবরদস্তির বিরুদ্ধে, ঘৃণার বিরুদ্ধে, সংবেদনহীনতার বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এবং আমি সে সমস্ত মানসিকতার বিরুদ্ধে যেগুলি হল মানবিকতার বিপরীত। 


আমি ইসলামেরও বিরুদ্ধে, হিন্দুত্বেরও বিরুদ্ধে, খৃষ্টানত্বেরও বিরুদ্ধে, সাথে সাথে আমি সে সমস্ত প্রত্যেক কিছুর বিরুদ্ধে যেগুলি হল মানবতার বিপরীত।


আমি জাতিবাদের বিরুদ্ধে, গোত্রবাদের বিরুদ্ধে, সামন্তবাদের বিরুদ্ধে, পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে, ব্রাহ্মণ্যবাদেরও বিরুদ্ধে এবং আমি সে সমস্ত সব কিছুর বিরুদ্ধে যা হল প্রকৃতির বিপরীত। 


সে সকল কাল্পনিক দেবী-দেবতা আপনাদের কি রকম ভাল করতে পারবে? যাদের মন্দিরই ভিক্ষা করে এবং চাঁদা তুলে নির্মাণ করতে হয়। 


গৃহস্থেরা বাচ্চাদেরকে যত খাবার খাওয়ায়না, তারচেয়েও অনেকগুণ বেশী ডর খাইয়ে থাকে। অন্ধবিশ্বাস ও কাল্পনিক বিষয় সমূহের ডরই বেশী খাওয়ায়। 


জগদ্গুরু শঙ্করাচার্য বলে থাকেন-‘মহিলা মন্দিরের পূজারী হতে পারেনা। কেননা তাদের শরীর অশুদ্ধ থাকে। সে অশুদ্ধ মহিলা হতে জন্ম নেওয়া পূজারী কি করে শুদ্ধ হবে? 


জিজ্ঞাস্য যে, যে ঈশ্বর বা আল্লাহ সৃষ্টির সবকিছু তৈরী করেছে, গাছ-পালা, নদী, পাহাড়, মনুষ্য, পশু, কীট-পতঙ্গ এমনকিছু নাই যা বানায়নি। সে তার জন্য মন্দির, মসজিদ ও চার্চ কেন তৈরী করেনি? 


আমি সে ভগবান, আল্লাহ, খোদা ও গডকে কি করে মানব, যিনি আরতী বা এবাদতের শব্দ শুনে থাকেন, কিন্তু ধর্ষণ হওয়া বোন, কন্যা ও শিশুদের করুণ আর্তনাদ বা কান্নার শব্দ শুনতে পায়না। 


যেদিন আপনি ধার্মিক গ্রন্থ সমূহে লিখিত কিস্সা কাহিনী সমূহকে বিজ্ঞান এবং যুক্তির পাল্লায় মাপতে শুরু করবেন, তখন আপনি সে গ্রন্থ সমূহের মাধ্যমে প্রসারিত মিথ্যা, প্রতারণা, অন্ধবিশ্বাস সমূহকে খুব সহজে দেখতে পাবেন। 


রামের হাতে ধনুষ, কৃষ্ণের হাতে চক্র, দুর্গার হাতে তলোয়ার, কালীর হাতে খঞ্জর, গণেশের হাতে কুড়াল, হনুমানের হাতে গদা এবং শঙ্করের হাতে ত্রিশুল রয়েছে। যদি তাঁরা ভগবানই হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁদের হাতিয়ারের প্রয়োজন কেন? আসলে তাঁরা ছিলেন ভয়ভীত। নিজেকে রক্ষা করতে পারতেননা। এজন্য অন্যকে মারার জন্য হাতিয়ার রাখতেন। 


ধর্ম হল ধান্ধা, যার প্রত্যেক গ্রাহকই অন্ধ হয়ে থাকে। 


আফসোস ধর্মের ধান্ধার জন্য হয়না, আফসোস তো এজন্যই হয় যে, পড়া-লেখা জানা লোকেরাও অন্ধ হয়ে থাকে। 


যে দেশের দেওয়ালে জ্যোতিষ, বাবা এবং তান্ত্রিকদের বিজ্ঞাপনের ছবি বা পোষ্টার লাগানো থাকে, সে দেশের উন্নতি পরে, প্রথমে লোকদের মস্তিস্কের ডাক্তারের প্রয়োজন। 


হে পণ্ডিত! ব্রাহ্মণ! আমার শক্তি কত বেশী দেখ, আমার স্পর্শ মাত্রই তোমার ভগবানও অপবিত্র হয়ে যায়। 


বাজারে বিক্রিত মূর্তি যদি আপনার জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি এনে দিতে পারে, তাহলে মুর্তি বিক্রয়কারী কি মুর্খ? 


আপনি ধার্মিক হলে তাহলে আপনার জন্য শিক্ষার কোন অর্থ হয়না। যদি আপনি শিক্ষিত হোন, তাহলে ধর্মের কোন প্রয়োজন হয়না। ঈশ্বর বা আল্লাহ হল এরকম এক নাম যিনি আপনার জন্ম হতে সমস্ত সফলতার কৃতিত্ব নিয়ে থাকেন, কিন্তু অসফলতার দায়ভার কখনও নেননা। 


মন্দির সমূহে অর্থের স্থানে যদি ফুল দেওয়া হয়, তখন চমৎকার দেখবেন পুরোহিতেরা মন্দির ত্যাগ করে পলায়ন করবেন। তাঁদের কাছে ভগবান নয়, আপনার অর্থই বেশী প্রিয়। (চলবে….)

Comments

Popular Posts